ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং | সাজেশন ও উত্তর । পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের জন্য

ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় | পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সাজেশন ও উত্তর দেয়া হল।

ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং | সাজেশন ও উত্তর । পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের জন্য

ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং

অধ্যায়: পানির বিভিন্ন উৎস।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন:

১।রান-অফ বলতে কী বােঝায়?(বাকাশিবাে-২০০৮, ০৯, ১২, ১৪, ১৫(পরি),

উত্তরঃ বৃষ্টিপাতের পর কোন স্রোতস্বিনীর ক্যাচমেন্ট এলাকা হতে ঐ স্রোতস্বিনীতে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যায় সাধারণভাবে ঐ পরিমাণ পানিই উক্ত ক্যাচমেন্ট এলাকার রান অফ (Run off)।

২।ক্যাচমেন্ট এলাকা বলতে কী বোঝায়? (বাকাশিবো -২০০৬,০৯,১৬)

উত্তরঃ কোন স্রোতস্বিনীতে (খাল, নালা, জলাধার, নদী ইত্যাদি) যতটুকু এলাকার পানি আসে, ততটুকু এলাকাই ঐ স্রোতস্বিনীর ক্যাচমেন্ট এলাকা।

৩।অনুস্রবন বলতে কী বোঝায়? ( বাকাশিবো ২০১৮)

উত্তরঃ বৃষ্টিপাত বা অন্য কোন পানিতে মৃত্তিকার উপরের স্তর সম্পৃক্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত পানি মৃত্তিকার প্রবেশ্য স্তর ভেদ করে ভূ-অভ্যন্তরের ভূনিম্নস্থ পানিতলের দিকে ধাবিত হয়। একে অনুস্রবণ বলা হয়ে থাকে।

৪।মৃত্তিকার অনুস্রবন এর হার কি কি বিষয় দ্বারা প্রভাবিত? (বাকাশিবো -২০১৮)

উত্তরঃ মৃত্তিকা স্তরে মৃত্তিকার কণাসমূহের মধ্যস্থিত ফাক , ফাকের আকায় ও মৃত্তিকার দৃঢ়াবদ্ধতার মাত্রা ইত্যাদি দ্বারা অনুস্রবন এর হার বহুলাংশে প্রভাবিত হয়।

৫। পানি ধারক স্তর বলতে কী বোঝায়?
অথবা অ্যাকুইফার কী? বাকাশিবাে-২০০২, ০৭, ০৮, ১৭ বাকাশিবাে-২০১৪]

উত্তর : ভূনিম্নস্থ যে স্তরে পানি সঞ্চিত থাকে, ঐ স্তরই পানি ধারক স্তর।বালি ও গ্র্যাভেলের সমন্বয়ে গঠিত ভূনিম্নস্থ স্তর একটি উত্তম পানির স্তর।

৬।হাইড্রোগ্রাফ কি? [বাকাশিবো -২০১৬,১৮,১৮(পরি)]
উত্তর : কোন ক্যাচমেন্ট এলাকার পানি নির্গমন পথের কোন সেকশনে পানি ক্ষরণের পরিমাণ ও ক্ষরণের সময়কালের সম্পর্ক দেখিয়ে যে লেখচিত্র আঁকা হয়, তাকে ঐ নির্গমন পথের ঐ সেকশনের ঐ সময়কালের হাইড্রোগ্রাফ বলা হয়।

৭।অধঃক্ষেপণ বা বৃষ্টিপাতের এর সংজ্ঞা দাও।[বাকাশিবো -২০০৫,১০,২০১৮]

উত্তরঃ বাষ্পীভূত পানি বায়ুমন্ডলে উবে গিয়ে যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে বারিকণায় পরিণত হয়, তখন এই সকল বারিকণা আর বায়ু বহন করতে পারে না। ফলতো এই সকল তরল পানির ফোঁটা গুলো বৃষ্টিরূপে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। বারিকণার এই পতনকে বারিপাত বা বৃষ্টিপাত বলা হয়।

৮। বিভিন্ন ধরনের বৃষ্টিমান যন্ত্রের নাম লিখ। [বাকাশিবাে-২০০৬, ০৯, ১২, ১৭]

উত্তরঃ নিম্নে বৃষ্টিমান যন্ত্রগুলাের নাম উদ্ধৃত্ত করা হলঃ

(ক) সাধারণ বা অস্বয়ংক্রিয় বৃষ্টিমান যন্ত্র- সাইমন বৃষ্টিমান যন্ত্র
(খ) স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টিমান যন্ত্র-

১। ওয়িং বাকেট বৃষ্টিমান যন্ত্র,
২। টিপিং বাকেট বৃষ্টিমান যন্ত্র,
৩। ফ্লোট টাইপ বৃষ্টিমান যন্ত্র

৯।ইনিশিয়াল বেসিন রিচার্জ বলতে কী বুঝায়?[বাকাশিবাে-২০১৪, ১৮ ]

উত্তরঃ বৃষ্টিপাত হওয়ার সাথে সাথে প্রথমেই বৃষ্টির পানি বিভিন্ন প্রতিরােধ (বাড়িঘর, গাছপালা, শুকনা ঘাস, পাত, ইত্যাদি) সিক্ত করার পর ভূপৃষ্ঠের ছােট ছাট নিচু অংশে জমা হয় এবং মৃত্তিকার আর্দ্রতা হ্রাস পূরণে সক্রিয় হয়। ইনিশিয়াল বেসিন রেচার্স বলতে উপরােক্ত কার্যাদির জন্য ব্যয়িত পানির পরিমাণকে বুঝায়।

১০।রান অফ সহগ বলতে কী বুঝায়
বাকাশিবাে-২০০২, ১০, ১১, ১৬(পরি)

উত্তরঃ কোন এলাকার রান অফের (R) সহিত ঐ এলাকার বৃষ্টিপাতের (P) অনুপাতকে ঐ এলাকার রান অফ কো-ইফিসিয়েন্ট (Run of Coefficient = K) বা রান অফ সহগ বলা হয়। অর্থাৎ K =R/P

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নঃ

১।কী কী বিষয় রান অফকে প্রভাবিত করে। (বাকাশিবো-২০০০, ০৪, ০৫, ০৬, ০৮, ০৯, ১০,১২, ১৩, ১৪, ১৭
অথবা, কোন ক্যাচমেন্ট এলাকার রান অফের বৈশিষ্ট্য কী কী বিষয়ের উপর নির্ভরশীল?ৰািকাশিবাে-২০১৬
অথবা, কোন এলাকার রান অফ কোন কোন বিষয় যারা প্রভাবিত হয়?

উত্তর- কোন ক্যাচমেন্ট এলাকার রান অফে প্রভাববিত্তারকারী প্রধান প্রধান বিষয়গুলাে নিচে উল্লেখ করা হল :

● ক)অধঃক্ষেপণ বৈশিষ্ট্যাপি (Precipitation characteristics)
● (খ) ক্যাচমেন্ট এলাকার জেনে বেসিনের বৈশিষ্ট্যাদি।
● 1. ক্যাচমেন্ট এলাকার আকার-আকৃতি ও অবস্থান (Shape, size & location of catchment)
● 2. ক্যাচমেন্ট এলাকার ভূ-সংস্থানিক অবস্থা (Topography of catch cat)
● 3. ক্যাচমেন্ট এলাকার ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য (Geological characteristics of catchment)
● 4. ক্যাচমেন্টের মুক্তিকায় আর্দ্রতা স্বল্পতা (Soil moisture deficiency of catchment)
● 5. ক্যাচমেন্ট এলাকার আবহাওয়া সম্বন্ধীয় বৈশিষ্ট্য (Meteorological characteristics of catchment) (গ) ক্যাচমেন্ট এলাকার ভূপৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the catchment surface)
● 6. ক্যাচমেন্ট এলাকার জলাধার সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য (Storage characteristics of catchment)

রচনামূলক প্রশ্ন:

১।চিত্রসহ পানি চক্র এর ধাপগুলাে ব্যাখ্যা কর। [বাকাশিবো-২০০২,০৫,০৭,০৮,০৯,১০,১১,১৪,১৭]
অথবা, হাইড্রোলজিক্যাল সাইকেল চিত্রসহ বর্ণনা কর।
অথবা, পরিচ্ছন্ন চিত্রসহ বারিধারা চক্র বর্ণনা কর।

উত্তর –

ভূপৃষ্ঠস্থ পানির বিভিন্ন উৎস (মহাসাগর, সাগর, নদনদী, হ্রদ, খালবিল, পুকুর-জলাশয় ইত্যাদি) এবং সিক্ত ভূত্বক হতে সৌরতাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে উবে যায় এবং গাছ গাছরা ইত্যাদি ও ভূনিম্নস্থ পানি শিকড়ের সাহায্য গ্রহণ করে প্রয়ােজনাতিরিক্ত পানি প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে ত্যাগ করে।

এ জলীয় বাষ্প মিশ্রিত বায়ু যখন উউর্ধ্বাকাশে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন বায়ুস্থ জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘমালার সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশা, শিশিরবিন্দু ইত্যাদিরূপে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। বিভিন্নরূপে পতিত এ পানির বৃহদাশে ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে (Run-off) নয়ায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানির উৎসে সঞ্চিত হয়, বাকি অংশের কিছু গাছগাছড়া ও মাটি শােষণ করে, কিছু তাৎক্ষণিকভাবে সৌরতাপে যাশীভূত হয়, কিছু অনুস্রবণের মাধ্যমে ভূ-অভ্যন্তরস্থ পানিধারক স্তরে সঞ্চিত হয় এবং কিছু ভূনিম্নস্থ পানি প্রবাহের মাধ্যমে পুনরায় ভূপৃষ্ঠ উৎসে পৌছায়।

এভাবে একটি জটিল প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পানির অনবরত বাম্পীতবন ও ঘনীভবন হওয়া, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত ইত্যাদি হিসেবে ভূপৃষ্ঠে পতন, ভূত্বকের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া, মৃত্তিকা শােষণ, পানি ধারণকারী স্তরে সঞ্চিত হওয়া, গाহগাছড়ার় পানি গ্রহণ ও প্রস্বেদন, পানি ভূনিম্ন্থ প্রবাহের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠ উৎসে পৌছা ইত্যাদি কার্যাদি চক্রাকারে সম্পাদিত হয়ে আসছে।

পানির এ প্রাকৃতিক চক্রকে পানি চক্র বা বারি চক্র (Hydrologic cycle) বলা হয়। মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে বলা যায়, অনন্তকাল হতে অধঃক্ষেপণই (Precipitation) পৃথিবীর সকল পানি উৎসে (সাগর, মহাসাগর, নদনদী, ভূনিম্ন্থ পানি ইত্যাদি) সরাসরি বা পরােক্ষতাবে পানি সরবরাহ করে এবং অধঃক্ষেপণ (বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি, বরফ, তুষার, শিশির, কুয়াশা, হেল ইত্যাদি) কালে বাষ্পীভবন ও উপরােক্ত পানির উৎস হতে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি বায়ুমণ্ডলে বিলীন হয়ে পুনঃ অধ্যক্ষেপণ হিসাবে পৃথিবীর পানির উৎসে আসে।

অনন্তকাল হতে এ দু’এর মধ্যে ভারসাম্যতা বিরাজ করছে। এ প্রক্রিয়াই বারি চক্র বা পানি চক্র। সূর্য ও করিওলিস (Coriolis) বলের প্রভাবই পানি চক্রের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সৌরতাপ পানিকে বাষ্প এবং করিওলিস বল বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে জলীয় বাষ্পের পরিচলনের মাধ্যমে বিভিন্নস্থানে অধ্াক্ষেপণে সহায়তা করে। (পৃথিবীর আহিনিক গতি ও নিরক্ষরেখা হতে মেরুর দিকে বিভিন্ন অক্ষাংশে পরিধির হ্রাসজনিত কারণে সৃষ্ট করিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহের গতিতে ভিন্নতা দেখা দেয়।) বারি চক্রের একটি
বর্ণনাধর্মী চিত্র প্রদর্শিত হল।

পানি চক্রে প্রধানত নিম্নের কার্যাদি সম্পাদিত হয় –

(ক) বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদন;

(খ) ঘনীভবন (মেঘমালায় বা পানিকণায় রূপায়ণ);
(গ) বিভিন্নরূপে ভূপৃষ্ঠে পানির পতন (বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, কুয়াশা ইত্যাদি);

(ঘ) ভূত্বকের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়া এবং ভূপৃষ্ঠস্থ উৎসে সঞ্চিত হওয়া;
(ঙ) মৃত্তিকায় পানি শােষণ এবং পানি ধারণকারী স্তরে সঞ্চিত হওয়া;

(চ) ভূ-অভ্যন্তরস্থ পানি প্রবাহের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠস্থ পানির উৎসে পানি জমা হয়।

 

 

অধ্যায়ের নামঃ কুপের অংশসমূহ এবং ভূনিম্নস্থ পানিধারক স্তরে পানি পুনঃপূর্ণকরণ

অতি সংক্ষিপ্ত

১। অবনমন শঙ্কু কী?
অথবা, অবনমন শঙ্কু বলতে কী বােঝায়?
[বাকাশিবো-২০০৫, ০৬, ০৭, ০৯, ১০, ১৪, ১৭ (বাকাশিবাে-২০১৪(পৰি।
উত্তরঃ
কূপ হতে পানি উত্তোলন করলে ভুনিম্নস্থ পানিতল কূপের বাইরের দিকের চারপাশে ক্রমশ নিম্নগামী হয়ে উত্তলাকারের একটি উল্টা শঙ্কু (Inverted cone) আকার ধারণ করে। এটাকে অবনমন শঙ্কু (Cone of deprcssion) বলা হয়।

২।চরম বেগ বলতে কী বুঝায়?

বাকাশিবাে-২০০৭, ১০, ১৪(পরি), ১৭, ১৮(পরি), ১৮

উত্তর-কূপের পানি কোন নির্দিষ্ট হেডে থাকা অবস্থায় কূপ হতে পানি উত্তোলনকালে অ্যাকুইফারের মৃত্তিকা কণাসহ অ্যাকুইফারের পানি কূপমুখী ধাবিত হওয়ার পূর্বলগ্নে অ্যাকুইফারমুখী পানি প্রবাহের বেগকে কূপের চরম বেগ বলা হয় ।

৩।পানিস্তর পুনঃপূর্ণকরণ বলতে কী বুঝায়?
অথবা, পানিধায়ক স্তর পুনাপূর্ণকরণ বলতে কী বুঝায়?[বাকাশিবাে-২০০০,০৬,১৫,১৮]

উত্তরঃ কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক উপায়ে ভূনিম্নের পানিধারক স্তরে পানি সঞ্চিতকরণকে ভূনিম্ন পানিস্তর পুনঃপূর্ণকরণ বলা হয়।

৪।ভূনিম্নে পানি পুনঃপূর্ণকরণের প্রয়োজন হয় কেন? [বাকাশিবো ২০০৪,০৮,১০,১৪,১৭]
অথবা, কী কী কারণে ভূগর্ভে পানি[বাকাশিবাে-২০১৮)
পুনঃপূর্ণকরণের প্রয়ােজন হয়?
অথবা, কী পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ পানি পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়।
অথবা, কী কী পরিস্থিতিতে ভূনিম্নস্থ পানি পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়, আলােচনা কর।

উত্তরঃ সাধারণত নিম্নোক্ত অবস্থায় বা পরিস্থিতিতে ভূনিম্নে পানি পুনাপূর্ণকরণের দরকার হয়-

(ক) যখন কোন এলাকায় অত্যাধিক পরিমাণে ভূনিম্নের পানি উত্তোলন করা হয় এবং কূপের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন ভূনিম্নে পানি পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়।

(খ) সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বা সমুদ্রের দ্বীপাঞ্চলে ভূনিম্নস্থ পানি মাত্রাতিরিক্ত উত্তােলনের ফলে ভূনিম্ন্থ পানিধারক স্তরে লবণাক্ত পানির অনাহুত প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকল্পে ভূনিম্নে অলবণাক্ত পানি পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়।

(গ)যখন ভূপৃষ্ঠস্থ জলাধারের তুলনায় ভূনিম্নস্থ অ্যাকুইফার পানি সংরক্ষণ সুবিধাজনক তখন ভূনিম্নে পানি পুনঃপূর্ণকরণের
দরকার হয়।
(ঘ) অপরিষ্কার পানি (Waste water) অপসারণের ক্ষেত্রে ভূপৃষ্ঠে পানি অপসারণের সন্তোষজনক ব্যবস্থা না থাকলে প্রয়ােজনীয় পরিশােধনের পর এটা ভূনিম্নে পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়।

ঙ) বাষ্পীয়ভবন ও অন্যান্য অপচয় রােধকল্পে ভূপৃষ্ঠস্থ জলাধারের তুলনায় ভূনিম্নস্থ জলাধার অনেক বেশি কার্যকর বিধায় ভূনিম্নের পানিধারক স্তরে পানি পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়।

(চ) ভূপৃষ্ঠস্থ জলাধার সৃষ্টিতে বাঁধ ও অন্যান্য কাঠামাে নির্মাণ খরচের পরিমাণের তুলনায় ভূনিম্নস্থ পানিধারক স্তরে পানি পুনাপূর্ণকরণের খরচের পরিমাণ খুবই কম এবং প্রয়ােজনের সময় পানি প্রাপ্তির নিশ্চয়তাও থাকে। তাই ভূনিম্নে পানি
পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়।

(ছ) ভূপৃষ্ঠস্থ উৎসের পানি বিতরণের জন্য বিতরণ ব্যবস্থার সুষ্ঠু বিন্যাসে বিস্তর পরিমাণ জায়গা ও অর্থের অপচয় হয়। এ জায়গা ও অর্থের অপচয় রােধের জন্য ভূনিম্নে পানি পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়। (ভূনিয়নের পানি অ্যাকুইফারের কোন নির্দিষ্ট পরিসরেই সীমিত থাকে না।)

(জ) বৃক্ষরাজিকে বাঁচানাে ও মরু প্রক্রিয়া রােধকল্পে ভূনিম্নস্থ পানিতল উপরে উঠানাের জন্য ভূনিয়ে পানি পুনঃপূর্ণকরণের দরকার হয়। তনি পানি পুনঃপূর্ণকরণের

রচনামূলক

১।বাংলাদেশে ভূনিম্নস্থ পানিধারক স্তরে পানি পুনঃপূর্ণকরণের প্রয়ােজনীয়তা আলােচনা কর। [বাকাশিবো -২০০৪,০৬,১০]

উত্তরঃ
নদীমার্তৃক বাংলাদেশে ভূপৃষ্ঠস্থ পানির প্রধান উৎস নদনদী। আর এ সকল নদনদীতুলোর উৎসস্থল দেশের বাইরে প্রতিবেশী সংশে। বর্ষার মৌসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাত ও প্রতিবেশী দেশ হতে আগত প্রচর পানির দরুণ দেশে বন্যা দেখা দেয়। কিন্তু এক ঋতুতে দেশের অভ্যন্তরে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না এবং ঠিক এ সময়েই প্রতিবেশী রাষ্ট্র একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে। ফলে জীর স্রোতধারা ক্ষীণ হয়ে পড়ে, ভূনিম্নস্থ পানিতল নিচে নেমে যায়। সেচ ও পানি সরবরাহের কাজে নদীর পানি চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়। যার ফলশ্রুতিতে দেশের উত্তরাঞ্চলে আরম্ভ হয় মরু প্রক্রিয়া। এরূপ অবস্থায় দেশের উত্তরাঞ্চলে পানির অভাবে কৃষিকার্য ও প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এমনকি খাওয়ার পানির সংকটও দেখা দেয়।

এ অবস্থা হতে পরিত্রাণ পাওয়ার পানি প্রাপ্তির মৌসুমে (বর্ষাকালে) ভূনিম্নের পানিধারক স্তরে পানি পুনঃপূর্ণকরণের প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম। 43998 বর্গকিলোমিটারের বাংলাদেশে প্রায় ১৫ কোটির অধিক লােকের বাস। এ ঘনবনতির দেশে ভূপৃষ্ঠস্থ জলাধার সৃষ্টির জন্য বিস্ত এলাকা পানিমগ্ন রাখা সম্ভব নয়। এতে যেমনি বিস্তর এলাকার দরকার তেমনি বিপুল পরিমাণে বিনিয়ােগের দরকার। তাই এ দেশে এরূপ ভূপৃষ্ঠস্থ, জলাধার সৃষ্টি যুক্তিসম্মত হতে পারে না। ফলত এ দেশের জন্য ভুনিম্নস্থ পানিধারক স্তরে পানি পুনঃপূর্ণকরণের

প্রয়ােজনীয়তাই অনস্বীকার্য। দেশের বিভিন্ন শহরের ব্যবহৃত পানি ও সিউয়েজ নদীতে ফেলা হয়। ফলত ভূপৃষ্ঠের উৎসের পানি প্রতিনিয়ত দৃষিত হয় এবং তা জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এমতাবস্থায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি দূষণমুক্ত রাখার জন্য প্রয়ােজনীয় পরিশােধন ও জীবাণুমুক্তকরণের পর ব্যবহৃত পানি ও সিউয়েজের পানি ভূনিম্নস্থ পানিধারক স্তরে পুনঃপূর্ণকরণ করাই শ্রেয়।

দেশের জনসংখ্যার শতকরা আশি ভাগের বেশি প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। শস্য উৎপাদনে পানির প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম। আর কৃষিক্ষেত্রে পানি সরবরাহের জন্য যেমনি পানির উৎসের প্রয়ােজন তেমনি সুষ্ঠু বণ্টন কাঠামাে নির্মাণেরও দরকার হয়। এ কাজে প্রচুর অর্থের দরকার হয়, সাথে সাথে বিস্তর স্থানেরও দরকার হয়। ভূনিম্নস্থ পানি সরবরাহের জন্য যেহেতু ব্যাপক পরিসরে পাইপ লাইন বা খালের দরকার হয় না। তাই সহজভাবে বলা যায়, এ দেশে কৃষিকার্যে ব্যবহারের জন্যও ভূনিম্নস্থ পানিধারক স্তরে পানি পুনঃপূর্ণকরণের প্রয়ােজন।

ভূনিম্নস্থ পানিতল নিচের দিকে যেতে থাকলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের সাম্যতা রক্ষাকল্পে সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকায় লােনা পানির ভূনিম্নস্থ তল উপরে উঠা আরম্ভ করে। ফলে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় ভূমি লােনাক্রান্ত হয় এবং কূপ হতে লবণাক্ত পানি পাওয়া যায়। এ লােনা পানির তলকে নিরাপদ গভীরতায় রেখে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় ভূনিয়নস্থ অলবণাক্ত পানিতল উপরে উঠানাের জন্য ভূনিম্নস্থ পানির ধারক স্তরে পুনঃপূর্ণকরণের প্রয়ােজনীয়তা অত্যধিক।

ভিডিও:

 

আরও দেখুন:

Leave a Comment